সাকিব আল হাসানের টেস্ট না খেলতে চেয়ে আইপিএলের জন্য ছুটি নেওয়া এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়েই গতকাল দফায় দফায় বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। প্রথমে ক্রিকেটারদের সঙ্গে, তারপর কোচিং স্টাফ ও বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে মিডিয়ার সামনে এসে পরিস্কার কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন বিসিবি প্রধান।

জাতীয় দলের সঙ্গে বৈঠক-

পাপন :ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের শেষ দুটি টেস্ট ম্যাচ ভালো হয়নি। ওরা এখন নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছে। কাজেই ওদের সঙ্গে একবার দেখা করা দরকার ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম, পুরো দলের সঙ্গে বসা হয়নি। আজ পুরো দলের সঙ্গে বসে একটু সাহস দিলাম। শুভকামনা জানালাম।

ডেলিগেট নিয়োগ-

পাপন :একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ হচ্ছিল। সেটা দূর করার জন্য নিউজিল্যান্ড সফরে জালাল ভাই যাচ্ছেন বোর্ডের পক্ষ থেকে। প্রতিটি সিরিজেই এখন থেকে কেউ না কেউ থাকবে বোর্ডের। সুজন অথবা দুর্জয় যাবে। তাতে করে যোগাযোগের সুবিধা হবে। দূরত্ব থাকবে না।

সাকিবে বিব্রত-

পাপন :না না, ব্রিবত ঠিক না, মন খারাপ। দেখেন, একজন খেলোয়াড়ের পেছনে কম বিনিয়োগ করি না। আমরা টেস্ট ম্যাচ হেরেছি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের কাছে। এবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পর পর দুই টেস্ট হারলাম। আমার ধারণা ছিল, সবাই উঠেপড়ে লাগবে পরের টেস্টে জেতার জন্য। সেই জায়গায় কেউ যদি মনে করে টেস্ট না খেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবে, এরপর আর কিছু বলার থাকে না। এখন আমাদের ধারণা পরিস্কার, কাউকে খেলার জন্য জোর করা হবে না।

দল গঠন কঠিন হবে কিনা-

পাপন :কোনো অসুবিধা হবে না। চুক্তিটা হয়ে যাক। চুক্তির তালিকা আসুক, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ওরা সবাই যদি লিখে দেয় আমরা কেউ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই না, আমি এখনই রাজি। তবে কেউ সফরের আগে গিয়ে বলতে পারবে না। যে খুশি বলে দিক, কে কে খেলতে চায় না। কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের সময় লাগবে, আমি একটা বছর সময় চাই। একবছর পরে কাউকে লাগবেও না।

মুস্তাফিজের ছুটি-

পাপন :মুস্তাফিজ আজ আমার কাছে এসেছিল দেখা করতে। আমাকে বলেছে, সে আইপিএলে খেলতে যাবে কিনা। আমি বলেছি, আমার কিছুই বলার নেই। তুমি খেলতে চাইলে একটা চিঠি দিয়ে দাও, আমরা তোমাকে আটকাব না। বার্তাটা সবার জন্য, একদম পরিস্কার। এটা কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, সাকিবের জন্য সিদ্ধান্তটা নিচ্ছি, তাও না। এটা সবার জন্যই সমান।