গণপূর্তের প্রকল্পে ধীরগতি, কাজের অগ্রগতি শূন্য

newsup
  • আপডেট টাইম : March 06 2021, 06:30
  • 507 বার পঠিত
গণপূর্তের প্রকল্পে ধীরগতি, কাজের অগ্রগতি শূন্য

নিউজ ডেস্কঃ  জাতীয় সংসদের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১৯ সালে। ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জানিয়েছে, কাজটির ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই কাজের অগ্রগতি শূন্য। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে মাত্র।

রাজধানীর সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন এবং ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রায় ৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজটিও চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই কাজেরও ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১ শতাংশ।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদফতর। চট্টগ্রামে ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়ির জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১ হাজার ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওই প্রকল্প এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজটির ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান ১০২টি প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা এমনই। প্রকল্পগুলোর মধ্যে গণপূর্ত অধিদফতরের ৩৩টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৩২টি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হাতে রয়েছে ১০টি প্রকল্প। বাকিগুলো মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিভাগের হাতে।

কোনো প্রকল্পেরই বাস্তব অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। যেটুকু অগগ্রতি হয়েছে তা শুধুই নথিপত্রের। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেয়া একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পগুলোর এমন জীর্ণদশায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কাজের অগ্রগতি তদারকির দায়িত্বে থাকা এই কমিটির সভাপতি ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে যা দেখেছি, সেটি সন্তোষজনক নয়। কাজের গতি ভালো নয়। প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে মন্ত্রণালয় যে পদ্ধতিতে কাজ করছে তাতে পরিবর্তন আনতে হবে।

সিস্টেমের কারণে এই ধীর গতি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গণপূর্ত অধিদফতরের হাতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ বা এর নিচে। এর মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের কাজ এ বছরে শেষ করার কথা। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৮টি প্রকল্পের কাজ এ বছরে শেষ করার কথা। কিন্তু সেগুলোর একটির কাজেও ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়নি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হবিগঞ্জের সদর উপজেলায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। প্রায় ৭ একর জমিতে ১৩২টি প্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্পের আওতায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এই কাজের দরপত্র যাচাই করা হচ্ছে মাত্র।

রাজউকের বহুল আলোচিত ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪২ শতাংশ। ২০১১ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্লকের কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে, যদিও ৬টি ভবন নির্মাণ এখনো বাকি।

অগ্রগতিতে পিছিয়ে রয়েছে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুন মাসে। অথচ এই প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ৫ শতাংশ।

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) হাতে থাকা ১১টি প্রকল্পের সবগুলোরই কাজ ৩০ শতাংশের বেশি হলেও সময়ের হিসাবে তা পিছিয়ে রয়েছে। বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুন মাসে। এই কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে। এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ।

এতদিনে প্রাথমিকভাবে খালের ময়লা কাদা ও মাটি অপসারণ করা হয়েছে। শহরের লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে ৩৫ শতাংশ। ১৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের সাড়ে ৫ কিলোমিটারে ১১৬টি পিয়ারের মধ্যে ১১০টির কাজ শেষ হয়েছে।

বন্দরনগরীর নাসিরাবাদে সিডিএ স্কয়ার প্রকল্প নেয়া হয় ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে। গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। অগ্রগতির হিসাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, নির্মিতব্য ১৬৫টি ফ্ল্যাটের ১৩১টির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। আগামী বছরের জুন মাসে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৮ শতাংশ। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা ৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২০১৩ সালে শুরু হয় দুটির কাজ। এগুলোর একটি চলতি বছরের জুন মাসে এবং আরেকটি ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। অথচ এ দুটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৬৮ ও ২ শতাংশ। ৪টি প্রকল্পের বাকি দুটি নেয়া হয় ২০১৭ সালে। কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এ বছরের জুনে। কিন্তু একটির অগ্রগতি ৪১ শতাংশ এবং আরেকটির মাত্র ২৫ শতাংশ।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর