বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেট দিয়েও আটকানো যাচ্ছে না চলাচল

newsup
  • আপডেট টাইম : April 21 2021, 10:16
  • 515 বার পঠিত
বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেট দিয়েও আটকানো যাচ্ছে না চলাচল

নিউজ ডেস্কঃ   রাস্তার মুড়ে মুড়ে বাঁশ ফেলে রাখা। সাথে পুলিশের চেকপোস্ট। তারপরও আটকানো যাচ্ছেনা মানুষ এবং ছোট ছোট যানচলাচল। বেড়েছে মোটরসাইকেল এবং পায়ে হেঁটে চলা মানুষের সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবার সর্বাত্মক লকডাউনের সপ্তম দিনে সিলেট নগরীতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

নগরী ঘুরে দেখা যায়, দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একেকটি মোটরসাইকেল চটজলদি বাঁশের ফাঁক দিয়ে চলে যাচ্ছে। যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিক্সা এবং রিক্সা চেকপোস্টের অদূরে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। পায়ে হেঁটে পুলিশ চেকপোস্ট পার হচ্ছেন মানুষ।

এরকমভাবে গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিক্সা, অটোরিক্সা এবং মানুষ চলাচল আরো বেড়েছে। পাশাপাশি চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ফেলে পুলিশি চেকপোস্ট তৈরিতে যানজট লাগতে দেখা গেছে।

কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় পরিবহন সংকটের ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। রাস্তায় অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরলেও কারো কারো মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতেও উদাসীনতা দেখা গেছে।

নগরীর বন্দর সিটি পয়েন্টে বাঁশ ফেলে চেকপোস্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানান, অনেকেই যৌক্তিক কারণে বের হয়েছেন। তবে তুচ্ছ কারণেও ঘর থেকে বের হচ্ছেন কেউ কেউ। এছাড়া, করোনা পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলে দুইজন চলাচল নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না অনেকে। সিটি পয়েন্ট চেকপোস্টে দেখা যায়, বাঁশ অতিক্রম না করতে পেরে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। তবে জরুরি কাজের জন্য যারা বের হচ্ছেন তাদের সার্বিক বিষয় তথ্য নিয়ে পুলিশ ছেড়ে দিচ্ছে।

অন্যদিনের মতো গতকাল সারাদিন লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। যারাই বের হয়েছেন, চেকপোস্টে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে পুলিশ। যাদের আইডি কার্ড আছে বা যারা জরুরি সেবার আওতায় চলাচল করছেন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে যারা আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে পারছেন না বা যারা জরুরি সেবার আওতাভুক্ত হয়ে চলাচল করছেন না এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সন্তোষজনক জরুরি কারণ প্রদর্শন করতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে দেখা যায় পুলিশকে। এছাড়া, বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড করায় এসব পয়েন্টে জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এতে লকডাউনে এসব এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে একদিকে বাঁশ দিয়ে আটকালেও দেখা গেছে একপ্রান্তের গাড়ি অন্যপ্রান্তে সহসা যেতে পারছে। বাঁশের ব্যারিকেডের পাশে একটু ফাঁকা রাখা হয়েছে, সেখান দিয়ে জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, এসকল চেকপোস্টে অননুমোদিত প্রাইভেটকার, রিক্সা, মোটরসাইকেলসহ পায়ে হাঁটা মানুষদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারছেন না।

সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, মানুষকে লকডাউন পুরোপুরিভাবে মানাতে পুলিশ সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হলে তাকে আটকানো হচ্ছে। আগামীতেও পুলিশের এই কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর