টিকা পাবার ক্ষেত্রে সবধরনের পথ খোলা রাখবে সরকার

newsup
  • আপডেট টাইম : April 25 2021, 09:49
  • 520 বার পঠিত
টিকা পাবার ক্ষেত্রে সবধরনের পথ খোলা রাখবে সরকার

নিউজ ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা পেতে একটি কিংবা দুটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চায় না বাংলাদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রয়োগে সুফল মিলছে- সেসব টিকা বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত সাতটি দেশ/সংস্থার অনুমোদন না পেলেও তা নেওয়া হবে। এ জন্য নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ওষুধের ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং ইউরোপীয় রেগুলারিটি অথরিটিসহ সাতটি দেশ ও সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহূত টিকাগুলোর অধিকাংশের এই সাতটি দেশ ও সংস্থার অনুমোদন নেই।

এরপর বাংলাদেশের টিকার দ্বিতীয় উৎস ছিল কোভ্যাক্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন জোট কোভ্যাক্স থেকে মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশের টিকা দেওয়ার কথা ছিল। সাতটি দেশ ও সংস্থার অনুমোদন নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রচলিত যে বিধিমালা রয়েছে, কোভ্যাক্সের টিকাও তার মধ্যে পড়ে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিকা ব্যবস্থাপনা কোর কমিটির সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে একটি কিংবা দুটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে বিপদ হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওষুধ ব্যবহারের যে নীতিমালা আছে, তা সংশোধন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ওই নীতিমালা সংশোধন হলে নির্ধারিত সাতটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের বাইরেও অন্যান্য উৎস থেকে মানসম্পন্ন টিকা কিংবা ওষুধ সংগ্রহ করা যাবে।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না পেলেও বিশ্বের ৬২টি দেশে প্রয়োগ হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও এই টিকাটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও এ টিকা নিতে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া প্রযুক্তি সরবরাহ করবে আর বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি টিকা উৎপাদন করবে। একই সঙ্গে চীনের টিকা ব্যবহারেও সরকারের সবুজ সংকেত মিলেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আব্দুল মোমেন চীন ও রাশিয়ার টিকার সংগ্রহের বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। সুতরাং এ চিত্র থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সাতটি দেশ ও সংস্থার অনুমোদনের বাইরেও টিকা কিনতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুতরাং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আইনগত বিষয়টি পরিবর্তন করলে যে কোনো উৎস থেকে টিকা সংগ্রহে আর কোনো বাধা থাকবে না। দেশে টিকা ব্যবহারের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ কমিটি ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল গ্রুপের (নাইটেগ) পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে গত ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে তিনটি দেশের পাঁচটি টিকার বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কার্যকর টিকার বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসন ও মডার্না, চীনের সিনোফার্ম ও ক্যানসিনো এবং রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি টিকা সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের লক্ষ্য সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা। এ জন্য একাধিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রয়োগের পর তার কার্যকারিতার খবর নেওয়া হচ্ছে। যে টিকার কার্যকারিতা ভালো এবং দ্রুততম সময়ে পাওয়া যাবে, সেগুলোই নেওয়া হবে। এতে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে আর কোনো সংকটে পড়তে হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর