প্রধান আসামি এস আই আকবরের জামিন নামঞ্জুর

newsup
  • আপডেট টাইম : June 03 2021, 09:11
  • 521 বার পঠিত
প্রধান আসামি এস আই আকবরের জামিন নামঞ্জুর

নিউজ ডেস্কঃ  নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুইয়ার জামিন নামঞ্জুর হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ভার্চ্যুয়াল শুনানি শেষে  ট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আব্দুর রহিম তার জামিন নামঞ্জুর করেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পিপি নওশাদ আহমদ চৌধুরী জানান, জামিন আবেদনের শুনানিতে প্রধান আসামি আকবরের পক্ষের আইনজীবীরা আকবর দীর্ঘদিন ধরে হাজতবাসে আছেন মর্মে আদালতকে অবহিত করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলার আসামি আকবর। এছাড়াও মামলার এফআইআরভুক্ত আসামিও নন তিনি। রায়হানকে নির্যাতনে তিনি সরাসরি জড়িত নন। এজন্য তারা আকবরের জামিন প্রার্থনা করেন।

আসামিপক্ষের বক্তব্যের জবাবে পিপি নওশাদ আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, আকবর কেবল হেফাজতে নিবারণ মামলার আসামি নন, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায়ও অভিযুক্ত। ঘটনার পর আকবরের পালিয়ে যাওয়া, ধরা পড়ার পর স্বীকারোক্তি এবং পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন করার প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ সদস্যদের জবানবন্দির বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন তিনি। উভয়পক্ষের শুনানিশেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন বলে জানান পিপি।

পিপি আরো জানান, আলোচিত এ হত্যা মামলার চার্জশিট এরই মধ্যে দাখিল হলেও একজন আসামী পলাতক থাকায় মামলার চার্জ শুনানি হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর শিগগিরই এ মামলার চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে এ মামলার অন্য আসামীরাও আদালতে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু, আদালত তাদের সবার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।

নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। পরদিন ভোর ৭টা ৫০ মিনিটে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

রায়হান হত্যার পরের দিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২০। ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি তৎসহ নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ১৫(১)(২)(৩)২০১৩। প্রথমে কোতয়ালী থানার এস আই আব্দুল বাতেন মামলাটি তদন্ত করলেও ১৩ অক্টোবর মামলাটি কোতোয়ালী থানা থেকে পিবিআই’র কাছে স্থানান্তর করে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রথমে পিবিআই ইন্সপেক্টর মহিদুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন। এরপর ইন্সপেক্টর আওলাদ হোসেনের ওপর মামলা তদন্তের দায়িত্ব পড়ে।

আলোচিত এ হত্যা মামলার চার্জশিটে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ বরখাস্তকৃত দারোগা আকবর হোসেন ভূঁইয়া ছাড়াও সহকারী উপ-পরিদর্শক আশেকে এলাহী , কনস্টেবল যথাক্রমে-হারুনুর রশিদ ও টিটু চন্দ্র , একই ফাঁড়ির টুআইসি দারোগা হাসান আলী এবং কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ৩০২/২১০/৩৪ তৎসহ নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫(১)(২)(৩) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান পলাতক রয়েছে। বাকি ৫ পুলিশ সদস্য জেল হাজতে রয়েছে। জেলহাজতে থাকা কনস্টেবল তৌহিদকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই জানিয়েছে, এ মামলার অভিযোগপত্রসহ কেস ডকেট ১৯৬২ পৃষ্ঠার। আর কেবল অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা ২২। চার্জশিটে ৬৯ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রায়হান যে চেম্বারে কাজ করতো-ওই চেম্বারের চিকিৎসককেও মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে।

এসআই আকবর, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন ও টিটুর নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এছাড়া, ফাঁড়ির টুআইসি এসআই হাসান আলী ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের আলামত গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর