সিলেট-৩ উপনির্বাচন : মরিয়া আতিক, চিন্তিত হাবিব

admin
  • আপডেট টাইম : August 30 2021, 15:33
  • 507 বার পঠিত
সিলেট-৩ উপনির্বাচন : মরিয়া আতিক, চিন্তিত হাবিব
নিউজ ডেস্কঃ সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব প্রচারে রাতদিন ঘাম ঝরাচ্ছেন। তার পক্ষে গণসংযোগে যুক্ত হয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মাহবুবউল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এর পরও টেনশনে রয়েছেন তিনি, কারণ এই আসনের প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী এখনো তার পক্ষে মাঠে নামেননি। অন্য দিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক দলের পুরোনো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। তিনিও সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তার পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে আজ সিলেটে আসছেন পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি দল।

জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পরও এই আসনের প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী নৌকার প্রচারে মাঠে নামেননি। তিনি শুধু বিবৃতি দিয়েই দায় সেরেছেন। তিনি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএমএ-এর মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজও মাঠে নেই। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় তারাও হাবিবের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন না। ফারজানা সামাদ নৌকার পক্ষে মাঠে না নামায় টেনশনে রয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। কারণ সামাদ চৌধুরীর রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ফারজানা সামাদ চৌধুরী নৌকার পক্ষে মাঠে নামলে এই বলয়ের ভোটারদের সহানুভূতি সহজেই পাওয়া যেত।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, নৌকা মার্কা উন্নয়নের প্রতীক। অতীতের ভেদাভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই এখন উন্নয়নের পক্ষে। নৌকার গণজোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মিথ্যাচার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলেও তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনি এলাকা সফর করে যাওয়ায় দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল সুদৃঢ হয়েছে বলে মনে করেন হাবিব।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক দলের পুরোনো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল মুকিত খান। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোট থেকে এই আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক ও বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। এতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন সামাদ চৌধুরী। এরপর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিকের পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি দল আজ সিলেটে আসছে। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, ব্যারিস্টার শামীম হারদার পাটোয়ারি এমপি, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, মেজর (অব.) রানা মো. সোহেল এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম শাহারিয়ার আসিফ. যুগ্ম মহাসচিব বেলাল হোসেন ও কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উছমান আলী রোববার বলেন, পার্টির মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন। তারা সিলেট-৩ আসনে একাধিক নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, লাঙ্গল প্রতীক ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের প্রতীক। যত বাধাই আসুক না কেন লাঙ্গলের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।

বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর গাড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বহিষ্কার হওয়ার ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা কেউই তার পাশে নেই। যে কারণে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তায়।

কংগ্রেসের প্রার্থী জোনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ভোটের মাঠে প্রচারে নেই বললেই চলে। তাই অনেকেই তাকে ডামি প্রার্থী হিসাবে আখ্যায়িত করছেন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এই আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর