জার্মানিতে সরকার গঠনের আলোচনা এগোচ্ছে

newsup
  • আপডেট টাইম : October 06 2021, 08:42
  • 505 বার পঠিত
জার্মানিতে সরকার গঠনের আলোচনা এগোচ্ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জার্মানিতে সরকার গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক আলোচনার প্রথম পর্ব শেষ৷ এবার দুটি বিকল্প জোটের মধ্যে একটিকে বেছে নেবার চেষ্টা চলছে৷ তবে মঙ্গলবার সবুজ দল ও রক্ষণশীল ইউনিয়ন শিবিরের নেতাদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরেও কোন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

 ‘কিংমেকার’ হিসেবে সবুজ দল ও উদারপন্থি এফডিপি দুই বড় রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে কোনো একটি এখনো চালকের আসন বেছে নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতির পরেও গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ইউনিয়ন শিবির৷ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দ্বিতীয় স্থানে এসে পড়লেও আগামী সরকারের নেতৃত্ব দেবার ক্ষীণ আশা আঁকড়ে ধরে রেখেছে  রক্ষণশীল দল৷ বিশেষ করে শিবিরের বিধ্বস্ত ও কোণঠাসা নেতা আরমিন লাশেট নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনো  চ্যান্সেলর হবার স্বপ্ন দেখছেন৷

দুই ‘কিংমেকার’ দল অবশ্য ইউনিয়ন শিবিরের একটি আচরণে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে৷ প্রথমে এফডিপি, তারপর সবুজ দলের সঙ্গে আলোচনার পর গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইউনিয়ন শিবির থেকে কেউ বা কারা সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু মন্তব্য ফাঁস করে দেবার কারণেই এমন অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে৷ এমন পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচনে জয়ী এসপিডিসহ চার রাজনৈতিক শক্তি মিলে কড়া নিয়ম স্থির করেছে৷ প্রতিনিধিদলের কোনো সদস্য আলোচনার বিষয়বস্তু ফাঁস করে ধরা পড়লে তাকে আলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারের অংশ হলে সেই ব্যক্তি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন না৷

সবুজ দলের নেতা রোব্যার্ট হাবেক বলেছেন, তার দল আবার এফডিপি দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবে৷ এসপিডি দল ও ইউনিয়ন শিবিরের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায়৷ কারণ তিন দলের জোট সরকার গঠন করতে হলে ‘কিংমেকার’ হিসেবে এই দুই দলের সহযোগিতা অপরিহার্য হবে৷

এমন পরিস্থিতিতে এসপিডি দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ওলাফ শলৎস-কে ভেবেচিন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে৷ তার দল রোববারই জানিয়ে দিয়েছে, যে তারা সবুজ দল ও এফডিপি-র সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত৷ কিন্তু এই দুই দলকে কাছে টানতে তার পক্ষে কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব, তার উপর আগামী জোট সরকারের রূপরেখা নির্ভর করবে৷ বিশেষ করে এফডিপি দলের সঙ্গে দরকষাকষি কঠিন হতে পারে৷ ইউনিয়ন শিবির আরও বেশি ছাড় দিলে শেষ পর্যন্ত তারাই চালকের আসনে বসতে পারে৷ সবুজ দলের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়ে লাশেট সেই পথ প্রশস্ত করতে পারেন৷ জনমত সমীক্ষায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ ইউনিয়ন শিবিরকে বিরোধী আসনে দেখতে চাইলেও সিডিইউ ও সিএসইউ দলের ইউনিয়ন এখনো হাল ছাড়তে প্রস্তুত নয়৷ এমনকি সেটা সম্ভব হলেও লাশেট নিজে শেষ পর্যন্ত চ্যান্সেলর হতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে৷

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর