শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফারের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলাকালে তাদের মধ্যে এ আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সরকারি খাতে সহজ শর্তে আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি দরকার। এছাড়া বেসরকারি খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এসব বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ানো ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা ও সক্ষমতার কথা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

অর্থমন্ত্রী সভায় অবহিত করেন, অপ্রত্যাশিত অভিঘাত কভিড-১৯ মহামারিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনার ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে ক্রান্তিকালেও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে।

সভায় হার্টউইগ শেফার অর্থমন্ত্রীর নান্দনিক ঢাকার জন্য সহযোগিতার প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে নেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের ঋণের (আইডিএ) সফল ব্যবহারকারী বাংলাদেশ। আইডিএ অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল। হার্টউইগ শেফার দারিদ্র দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নেওয়া লাগসই পরিকল্পনা ও এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যেরও প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।