দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে চেয়ারে বসে ছিলেন, সে অবস্থায়ই না ফেরার দেশে চলে যান ইনামুল হক

newsup
  • আপডেট টাইম : October 12 2021, 03:06
  • 503 বার পঠিত
দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে চেয়ারে বসে ছিলেন, সে অবস্থায়ই না ফেরার দেশে চলে যান ইনামুল হক

বিনোদন ডেস্কঃ দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে চেয়ারে বসে ছিলেন। সে অবস্থায়ই না ফেরার দেশে চলে যান ড. ইনামুল হক। সোমবার নাট্যজন ইনামুল হকের মৃত্যুতে যেন আকস্মিক শোকের পর্দায় ছেয়ে গেল শহর।

সঙ্গে কথা হয় ড. ইনামুল হকের মেয়ে জামাই লিটু আনামের। তিনি বলেন, ‘বেইলি রোডের বাসায় দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে চেয়ারে বসে ছিলেন উনি। সে অবস্থায়ই তিনি চলে যান। একেবারে ভালো ছিলেন তিনি, কিছুই হয়নি তার।’

স্ত্রী লাকী ইনাম চেয়ারে বসে থাকা স্বামীকে ডাকছিলেন। তখনই বোঝেননি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে, ইনামুল হক আর নেই। প্রিয় মানুষ, দীর্ঘ পথের সারথি চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে। লিটু আনাম বলেন, ‘ওনার স্ত্রী মানে লাকি ইনাম গিয়ে ডাকছিলেন, কিন্তু উনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। এরপর দ্রুত নিকটস্থ একজন চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়, তখনো পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর দ্রুত ইসলামিয়া হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে ডাক্তাররা জানান, উনি নেই।’

ড. এনামুল হক একটি অধ্যায়ের নাম। এই দেশের নাট্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তাঁর এমন চলে যাওয়ায় ব্যথিত দেশের নাট্যজগৎ, ব্যথিত সাধারণ দর্শক, সাধারণ মানুষ- এমনটাই মনে করছেন এই সময়ের নাট্যচর্চায় যারা যুক্ত রয়েছেন তাদের সবাই।

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘ড. ইনামুল হকদের মতো মানুষরা ছিল বলেই আজ বাংলাদেশের নাট্য জগৎ রয়েছে। বাংলাদেশের নাট্য চর্চার যে ভিত্তি তা ওনারাই তৈরি করেছেন। টেলিভিশন, মঞ্চ ওনাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল বলেই সময় পরম্পরায় আজ এখানে এসেছে। তিনি এমন পর্যায়ের, এমন মাপের মানুষ, তাঁকে নিয়ে আমার বলার মতো কিছু নেই। শুধু এটুকু বলব, নাট্য জগতের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, একটি নক্ষত্র খসে গেল।’

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্ম হয় তার। বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্যসঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)।

ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন ড. ইনামুল হক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নটর ডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথমে মঞ্চে অভিনয় করেন।

ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে। এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। মৃত্যুর পূর্ব সময় পর্যন্ত দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন গুণী এই নাট্যজন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর