জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

newsup
  • আপডেট টাইম : October 24 2021, 10:25
  • 515 বার পঠিত
জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

অর্থনীতি ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এ বছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তা ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিবেদনে কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই প্রান্তিকে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার। এখন স্থিতিশীল থাকলেও কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কৃষিপণ্যের বাজার। আট বছরের মধ্যে এখন খাদ্য মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি। ভুট্টার দাম অতি সম্প্রতি কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত মে মাসে প্রতি মেট্রিক টন ভুট্টা ৩০০ ডলার পর্যন্ত চড়েছিল। মূলত উৎপাদন কম হওয়া, পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভুট্টার দর বেড়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে ২৩০ ডলারে নেমে এসেছে ভুট্টার দর। সরবরাহ সংকটে চালের দাম এ বছরের শুরুর দিকে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গিয়েছিল। গত ত্রৈ-মাসিক হিসাবে এটি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি মেট্রিক টন চাল এখন ৪০৬ ডলারে নেমেছে। ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার সয়াবিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া চীন সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে ব্যাপক হারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর