বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি হচ্ছে

newsup
  • আপডেট টাইম : December 20 2021, 04:02
  • 515 বার পঠিত
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি হচ্ছে

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার (২২ ডিসেম্বর) দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই সফরকালে ঐ চুক্তি হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সংশোধিত একটি চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ চুক্তি হলে মালদ্বীপে বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত ৪৩ জন নাগরিক এবং আরো ৪০ জন বিচারাধীন নাগরিক দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন। পক্ষান্তরে মালদ্বীপও বাংলাদেশ থেকে তাদের অপরাধী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে পারবে। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মালের কোনো অপরাধী নাগরিক নেই। প্রধানমন্ত্রীর মালে সফরে সেদেশে বাংলাদেশি স্বাস্হ্যকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রও তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভায় ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য রিপাবলিক অব মালদিভস অন ট্রান্সফার অফ প্রিজনারস’ শীর্ষক চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন। আরো কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ যাচ্ছেন। তার সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান।

তিনি জানান, ২২ ডিসেম্বর বিশেষ ফ্লাইটযোগে প্রধানমন্ত্রী মালেতে অবতরণ করবেন এবং বিমানবন্দরে মালদ্বীপ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরদিন ২৩ ডিসেম্বর সকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন এবং তখন তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে যাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দ্বৈত করারোপ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের জাতীয় পার্লামেন্টেও বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেওয়া ১৩টি সেনাযান বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে চায়, তবে মালদ্বীপ এখনো রাজি নয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটা এমওইউ ছিল, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হেলথ প্রফেশনালরা যেতেন। মালদ্বীপ ২০২৪ সাল পর্যন্ত এর মেয়াদ বৃদ্ধি এবং এটিকে একটি চুক্তির মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বলে আসছে। এটা হলে কোয়ালিফাইড হেলথ প্রফেশনাল, ক্লিনিক্যাল স্পেশালিষ্ট, পাবলিক হেলথ স্পেশালিষ্ট, ডেন্টাল সার্জন, নার্সেস অ্যান্ড আদার অক্সিলারি স্টাফও মালে পাঠানো সম্ভব হবে।

মিথ্যা উপাধি ব্যবহার করলে জেল-জরিমানা: মিথ্যা উপাধি ব্যবহার, অনুমোদনহীন ওষুধের প্রেসক্রিপশন এবং ডিগ্রির অনুকরণ করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে ১৯৮৩ সালের একটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। আইনে ঢাকায় একটি আয়ুর্বেদিক বোর্ড থাকার কথা বলা হয়েছে। এই বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে যে কোনো স্থানে শাখা করা যাবে। আইন অনুযায়ী একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, চেয়ারম্যান এবং একজন রেজিস্ট্রার থাকবে। বছর শেষে বোর্ড সার্বিক প্রতিবেদন সরকারকে দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি কাউন্সিল থাকবে মেডিক্যাল কাউন্সিলের মতো। তারা একাডেমিক বিষয়গুলো দেখবে। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে তিন বছরের জন্য। কাউন্সিলের কাজ হলো—ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির রেজিস্ট্রেশন, গবেষণা বা বিশেষ শিক্ষা প্রবর্তন করাসহ অন্যান্য গবেষণা, আর্থিক স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রকাশনা।

ইউনানি চিকিৎসকরা ‘ডাক্তার’ টাইটেল ব্যবহার করতে পারবেন কি না, প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনে কিছু সাজার বিধানও রাখা হয়েছে। কোনো সংস্হা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি মিথ্যা উপাধি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। অনুমোদনহীন ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিলেও এক বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড এবং কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ডিগ্রির অনুকরণ করলে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

দেশের বাইরে মেডিক্যালে পড়তে গেলে অনুমোদন লাগবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের বিদেশে স্বীকৃতিতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল করতে একটি আইনের খসড়াও এদিন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। সচিব বলেন, উন্নত দেশে যদি আমাদের মেডিক্যাল শিক্ষা বা পেশাকে স্বীকৃতি দিতে হয় কিংবা দেশে এমবিবিএস করার পর শিক্ষার্থীদের অন্যদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে হয় তবে তাদের একটা অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের আওতায় তাকে স্বীকৃতি নিতে হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন থেকে উন্নত দেশে চিকিৎসা দিতে কিংবা মেডিক্যালে পড়তে গেলে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের অনুমোদন লাগবে—এমন বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রডিটেশন আইন-২০২১’ খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে আগামীতে যে কোনো কোম্পানিকে অর্থ লেনদেন কিংবা পরিশোধের ব্যবসা করার সুযোগ রেখে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন-২০২১’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কেউ আইন না মেনে লেনদেন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

ওমিক্রন মোকাবিলায় সতর্ক থাকার নির্দেশ: মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমিক্রন সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চান এবং তিনি নিজেও কিছু নির্দেশনা দেন। দ্রুত বুস্টার ডোজ প্রদানসহ সর্বোচ্চ সংখ্যক নাগরিককে টিকার আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর